#৬ বোলান কথাঃ ভৌগলিক অবস্থান।

গাজন-চড়ক উৎসব ও নীলপূজার একটি অঙ্গ বোলান। বোলান গ্রামের তথাকথিত অশিক্ষিত মানুষের সমবেত প্রয়াস। এই সকল মানুষদের হয়ত লেখা বা পড়ার ক্ষমতা নেই। কিন্তু জীবনের অভিজ্ঞতায় তারা সকলেই পরিপূর্ণ। তারা তাদের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই বোলান পালার বিষয়বস্তু গ্রহন করেন। ভরা চৈত্রে বসন্তর দিনে হয় বোলান। অন্যসময় হয় না।

বোলানের পোষকও গ্রামের মানুষ। বোলান শিল্পীদের গ্রামের মানুষ চাল ডাল টাকা, যার যেমন সাধ্য সেই মত সাহায্য করেন।

কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর ‘গণদেবতা’ উপন্যাস থেকে জানা যায় বীরভূমের ময়ূরাক্ষী নদীতীরবর্তী গ্রামের শতাধিক বর্ষের পুরনো বোলান অনুষ্ঠানের কথা। উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে ধর্মরাজতলায় বোলান পালাগানের কথা।

বীরভূম জেলা


ধর্মরাজতলা

বোলান গান সম্পর্কে সবন্ধু মণ্ডল লিখেছেন, “বোলান মূলত অন্ত্যজ শ্রেণীর অনুষ্ঠান। তৎকালীন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তারা ছিল অপাংক্তেয়। তাই তারা তাদের কৃষ্টির বহিঃপ্রকাশ হিসাবে এই উৎসবটিকে বেছে নিয়ে ছিল। কারণ শিব উচ্চ শ্রেণীর থেকেও বেশি কাঙ্ক্ষিত নিম্ন শ্রেণীর কাছে"।

     বোলান পালার শুরুতে হয় বন্দনা গান। এর পর হয় বোলানের প্রকৃত অংশের গান বা পালা। সরল বেশে পাঁচালির সুরে গান করা হয়। এরপর হয় পাঁচালি। এতে সংলাপের মাধ্যমে তত্ব ব্যাখ্যা করা হয়। সব শেষে হয় রঙ পাঁচালি। এতে গম্ভীর ভাব ত্যাগ করে সাম্প্রতিক কোন লঘু কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গান করা হয়। গানের দলগুলি এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে ঘুরে বেড়ায়। 


Roll- RBU/MCVS     No- 165024

Comments

Popular posts from this blog

#1 লোকসঙ্গীত কী?

#১০ উপসংহার।

#৭ বোলান কেন লোকনাট্য?