#৪ বোলানের ইতিকথা

শ্রদ্ধেয় হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় সংকলিত ‘বঙ্গীয় শব্দকোষ’ অনুযায়ী বোলান হল বিশেষ্যপদ(বোলা+অন)। তিনি বোলান শব্দের অনেক অর্থ উল্লেখ করেছেন। বোলান অর্থে কথা বলা, প্রতিবচন বা উত্তর। যেমন- “ঘরে গেল্যা না দিয়া বোলান” (কবিকঙ্কন চণ্ডী)। আবার বোলান অর্থে সম্ভাষণ বোঝায়। যেমন- “আজি কেন না করে বোলান” (মনসামঙ্গল)। আবার, ‘বুলা’ শব্দের অর্থ- ভ্রমণ, পর্যটন করানো বা বিচরণ করা। ‘বোল’ শব্দের অর্থ হল বাক্য, বুলি, কথা, সান্ত্বনা বাক্য, ভাষা, বাদ্যের গৎ, গুঞ্জন, ধ্বনি, চেঁচাইয়া বলা ইত্যাদি।

জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাস সংকলিত ‘বাঙ্গালা ভাষার অভিধান’ গ্রন্থে ‘বোলান’ এর অর্থ হল বোল, বাক্য, উত্তর, বলানো ইত্যাদি। ‘বুলা’ শব্দের অর্থ ভ্রমণ, সঞ্চারণ। ‘বালা’ শব্দের অর্থে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “শিবের গাজন উৎসবে যারা (প্রধানতঃ নমঃশূদ্রগণ) বেতের ছড়ি লইয়া নৃত্য করে ও গান গায়’। “ সন্ সন্যাসী লইয়া বালা চলেন শিবের বাস, শিব শিব বলিয়া ডাকে ঘন ঘনে”- শিবের গাজন, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ / বঙ্গ সাহিত্য পরিচয়, পৃষ্ঠা ১৫১। এখানে সন্ অর্থে সাধু।

সুকুমার সেন রচিত ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস’ অনুযায়ী ছড়া কেটে ঢোল কাঁসির সঙ্গতে গান শিবের গাজনে গাওয়া হত। এই ছড়া আর্যা বা তর্জা নামে পরিচিত। ধর্ম ঠাকুর বা শিবের গাজনে মূল সন্ন্যাসী  গাঁয়ের পথে পথে ঘুরে ঘুরে যে তর্জা বলত, তার নাম বোলান।




Roll- RBU/MCVS     No- 165024

Comments

Popular posts from this blog

#1 লোকসঙ্গীত কী?

#১০ উপসংহার।

#৭ বোলান কেন লোকনাট্য?