#৫ বোলানের ইতিকথা ২।
গাঙ্গেয় উপত্যকায় আজও আদিম অস্ট্রিক জাতির সংস্কৃতি লক্ষ্য করা যায়। এই সাংস্কৃতিক ধারায় ধর্ম
ঠাকুর – প্রাক-বৈদিক, প্রাক-আর্য ও প্রাক-বুদ্ধ। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য বীরভূম জেলার
নানা অংশে ধর্ম ঠাকুরের পুজোর সাথে বোলান অঙ্গাঙ্গিক ভাবে জড়িত।
আশুতোষ ভট্টাচার্য বলেছেন, “গাজন উৎসব দুর্গোৎসবের মত
পণ্ডিতদের হাতে পড়িয়া বিধিবদ্ধ হয় নাই বলিয়া বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে ইহার বিভিন্ন
রূপ প্রকাশ পাইয়া থাকে”।
গাজন সংস্কৃত গর্জন শব্দের বিবর্তিত রূপ। গাজন অর্থে
ধর্মরাজের উৎসব বা চড়কপর্বে শিবের উৎসব। চড়ক সংস্কৃত চক্র স্বরাগমে চকর,
বর্ণবিপর্যয়ে চড়ক- চৈত্র সংক্রান্তি তিথিতে অনুষ্ঠেয় শিবের ব্রত বা পার্বণ বিশেষ।
বোলান লোকনাট্য প্রাচীনত্বে খ্যাত। শ্রী চৈতন্যের সময়ও কি
বোলান গান প্রচলিত ছিল? শ্রী চৈতন্যের জীবনীকার বৃন্দাবন দাস রচিত ‘চৈতন্য ভাগবত’ এ আছে-
একদিন আসি এক শিবের গায়ন।
ডমরু বাজায় – গায় শিবের কথন।।
আইল করিতে ভিক্ষা প্রভুর মন্দিরে।
গাইয়া শিবের গীত বেঢি নৃত্য করে।।
অর্থাৎ নবদ্বীপে শ্রী চৈতন্যের গৃহে একজন শিব কাহিনীমূলক
গানের গায়ক এসে নাচ গান করছিলেন। সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলেও এই নাছগান বোলান
বলেই অনুমান করা যায়।
আবার, পঞ্চদশ শতকের কবি বিজয় গুপ্তর মনসামঙ্গল কাব্যেও
বোলান গানের উল্লেখ পাওয়া যায়, “শিবাই নাচেরে মুখেতে গীত গাহে/ হাততালি দিয়া
কিঙ্করে গীত গাহে”। - অর্থাৎ শিববেশধারী একজন গীত যোগে শিবনৃত্য করছেন। এটিও বোলান
বলেই মনে করা হয়।
Roll- RBU/MCVS No-165024
Comments
Post a Comment