#৩ ভূমিকা।
“আমরা দুটি ভাই, শিবের গাজন গাই...” শৈশবকালে এই ছড়াটা
বলেননি, এমন বাঙালি মেলা ভার (বর্তমানের ‘sophisticated,
convent educated’ শিশুদের কথা আলাদা)। কিন্তু আদতে এটি ছড়া নয়,
গাজনের গান, বা আরও সূক্ষ্মভাবে বললে বোলানের গান।
লোকনাট্য বোলান বাংলার চিরায়ত লোকসংস্কৃতির এক উজ্জ্বল অংশ।
এটি লোকমানসের এক উল্লেখ্য ফসল যা এখনও সামাজিক জীবনকে পরিপূর্ণতা প্রদান করে। গ্রামীণ
জনজীবনকে পূর্ণতা দেওয়ার জন্যই বোলান আয়োজিত করা হয়। একাধিক বাদ্যযন্ত্রের তালে
মুখরিত নৃত্যগীতে উদ্বেলিত এই লোকনাট্যে অপরকে আনন্দ দেওয়ার থেকে নিজে আনন্দ পাওয়া
মূল কথা। সোজা কথায় বোলান পেশাদার অনুষ্ঠান নয়, মনের স্বতঃউৎসারিত প্রকাশ। ব্যাক্তি
চেতনার সাথে সমাজ চেতনার মিশ্রন হল বোলান। লোকজীবন ও লোকবৃত্তের সাথে ঘনিষ্ঠ
সংস্পর্শ-সম্পর্কযুক্ত লোকনাট্য বোলান।
বোলান সজীব। লোক-জীবনের সমাজ যা দেখে, যা বোঝে, যা জানে তাই
নিজেদের সমাজের উপযোগী করে তোলে। গ্রামীণ কৃষিনির্ভর সমাজ সম্পর্কে বোলান শিল্পীরা
সচেতন ও সতর্ক। এনারা কখনই এর বিরুদ্ধাচার করেন না। লোকশিল্পী স্রষ্টার মুখে
সৃষ্টি হয়ে মৌখিক ভাবেই প্রসারিত হয় বোলান। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, “গাছের শিকড়টা
যেমন মাটির সাথে জড়িত এবং তাহার অগ্রভাগ আকাশের দিকে ছড়াইয়া পড়িয়াছে, তেমনই
সর্বত্রই সাহিত্যের নিম্ন অংশ স্বদেশের মাটির মধ্যেই অনেক পরিমাণে জড়িত হইয়া ঢাকা
থাকে। তাই বিশেষরূপে সংকীর্ণরূপে দেশীয় স্থানীয়। তাহা কেবল দেশের জনসাধারণেরই
উপভোগ্য ও আয়ত্তগম্য। সেখানে বাহিরের লোক প্রবেশের অধিকার থাকে না। সাহিত্যের যে
অংশ সার্বভৌমিক তাহা এই প্রাদেশিক নিম্নস্তরের থাকটার উপরে দাঁড়াইয়া আছে”।
বোলান লোকনাট্য সমাজের লোকাশ্রিত কাহিনীনির্ভর। কাহিনী
বিন্যাসে গভীরতা ও বলিষ্ঠটা আছে। বোলান কোন মঞ্চের বদলে উন্মুক্ত, অবারিত,
লোকাকীর্ণ আসরে পরিবেশিত হয়।
Roll- RBU/MCVS No- 165024
Comments
Post a Comment