#২ এক নজরে বোলান।।
প্রাচীনকাল থেকেই বাঙ্গালীর সাধনার
শ্রেষ্ঠ সম্পদ হল সঙ্গীত। বাঙ্গালীর ধ্যান-জ্ঞান, সুখ-দুঃখর অনুভুতি সব কিছু ঘিরেই
আছে সঙ্গীত। সঙ্গীতকে বাদ দিয়ে বাঙ্গালীর চরিত্র অনুধাবন সম্ভব নয়। আসলে সঙ্গীতই
হল বাংলার সংস্কৃতির প্রাণ।
বাংলার ভৌগলিক অবস্থান ও ভাষার ভিন্নতার
কারণে বিভিন্ন লোকসংস্কৃতি লক্ষ্য করা যায়।
বোলান হল এরকমই একটি বাংলার লোকসংস্কৃতি। মূলত
মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, বর্ধমান, বীরভূম জেলার কিছু অংশে চৈত্র মাসের শেষের দিকে
অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ করে শিবের গাঁজনকে কেন্দ্র করে। আগে এর নাম ছিল গাঁজনে বালার
গান। পরে সময়ের কালে তা বোলান গান হয়ে যায়।
নৃত্য-গীত-অভিনয় যোগে পরিবেশিত হয় বোলান। দলে থাকে গায়ক
বাদক। অল্প বয়সী কিশোর নর্তকী ও গায়িকার ভূমিকা পালন করে। এই গানের প্রধান বিষয়
সমাজ জীবন ও সমসাময়িক ঘটনা। এতে গুরু-লঘু উভয় বিষয় স্থান পায়। লঘু বিষয়কে বলে রঙপাঁচালি
ও গুরু বিষয়কে বলে খণ্ডগীতি। বোলান গান শুরু হয় বন্দনার মাধ্যমে পরে পাঁচালি ঢঙ্গে
গান গাওয়া হয়। গানের পর সংলাপের দ্বারা কিছু তত্ত্বকথা বলা হয়। তারপর হয় রঙপাঁচালি
যা দর্শকদের আনন্দ দেয়।
বোলান গানের শিল্পীরা সাধারণত অপেশাদার হয়। যন্ত্রী না
থাকলে ভাড়া করে আনা হয়। তবে সময়ের স্রোতে ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বোলান গানের
ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।
![]() |
| বোলান গানের আসর। সৌজন্যে- আনন্দবাজার পত্রিকা। আসল ছবি দেখুন |
Roll- RBU/MCVS No-
165024

Comments
Post a Comment